Sunday, October 22, 2017

তুর্কি বৃত্তান্ত

নাকউঁচু ইংরেজদেরও  রসবোধ প্রকাশ পায় মাঝে মাঝে। ইংরেজি বাগধারা তে ‘কিকিং দা বাকেট’, বলে একটা কথা আছে।  সোজা বাংলাতে এর মানে দাঁড়ায়, ‘পটল তোলা’। বোধহয় গলায় দড়ি দেবার সময়, বালতির ওপরে দাঁড়িয়ে, বালতি কে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া থেকে এর উৎপত্তি। আবার ‘বাকেট লিস্ট’ কথাটার উৎস, এই ‘কিকিং দা বাকেট’ কথাটা থেকে। ‘ বাকেট লিস্ট” অর্থাৎ শেষ ইচ্ছের ফিরিস্তি। পাঠক দের এই ফিরিস্তির মধ্যে চরকিপাক খাওয়ালাম এটা বোঝাতে যে, তুরস্ক  ভ্রমন আমার ‘বাকেট লিস্ট’ এ ছিল, বহুদিন যাবত।  

তুরস্ক, কেন? প্যারি, লন্ডন, জুরিক, রোম, কেন নয়? এর কারন তিনটে। একঃ ওসমানি সুলতানেরা এশিয়াআফ্রিকা আর ইউরোপে  দাপিয়ে রাজত্ব করেছেন যে যে প্রদেশ তারা একে একে জয় করেছেন,  সেখান সেখান থেকেতারা সেই  প্রদেশের সেরাটি তুলে এনে তাদের রাজধানি ইস্তানবুল কে সাজিয়েছেন তাই তুরস্ক আজ অনেকগুলি সভ্যতার উৎকর্ষের ধনে সমৃদ্ধ চারুকলা, স্থাপত্য, বিজ্ঞানে, খাদ্যদ্রব্যে, দৈহিক বৈশিষ্ঠে  এই তিন মহাদেশের সংমিশ্রণ চোখে পরে। প্রানবন্ত এই মিশ্রণের সংস্কৃতি কে চাক্ষুষ করার সাধ আমার বহুদিনের।(প্রসঙ্গত বলে রাখিসামন্ততান্ত্রিক প্রথা ছাড়া এত বড় সাম্রাজ্য কে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারতেন না ওসমানী সুলতানেরা তাই সাম্রাজ্যটাকে বিভিন্ন প্রদেশে তারা ভাগ করে দিয়েছিলেন এই প্রদেশগুলি কে তারা ‘বেয়ি’ বলতেন

দুইঃ  পুরোদস্তুর ইউরোপে পা না দিয়েও, ইউরোপের স্বাদ পাবার সুযোগ।

তিনঃ লোকুম আর কেবাপ । ইংরেজরা, যেখানেই পা দিয়েছে, নিজেদের সুবিধামত, দেশীয় শব্দের অদল বদল করেছে। এর কারন, পৃথিবীর বহু দেশে উপনিবেশ গড়ে তলার সুবাদে, ইংরেজরা তাদের নিজেদের দেওয়া নাম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। আজ তাই লকুম, সারা বিশ্বে পরিচিত আর আদ্রিত, ‘টার্কিশ ডিলাইট’ নামে। যেমন, তারা, তুরস্ক কে টার্কি বলে চালিয়েছে আর তুর্কির মহান ওসমানী সাম্রাজ্য কে সমগ্র পৃথিবীর কাছে পরিচিত করেছে ‘অটোম্যান এম্পায়ার’ নামে। এতে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, নাকি প্রকাশ পেয়েছে তাদের ফক্কিকারির অহংকার, পাঠকরা ভালো বলতে পারবেন।

লোকুম এর সাথে প্রথম মোলাকাত ইস্তানবুলের রিচমন্ড হোটেলের প্রাতরাশ এর টেবিল এ। উত্তর ভারতে গেলে, একরকম মিষ্টি দেখতে পাওয়া যায়, নাম সোহন হালুয়া। ইস্তানবুলের হোটেলে্র রেস্তরাঁ তে দেখলাম, রংবেরঙ্গের চটচটে একটা মিষ্টি কিউব এর আকারে কাটা, দেখতে আর খেতে সোহন হালুয়ার মতপাশে লেখা আছে লোকুম এই সেই ভুবন বিখ্যাত ‘টার্কিশ ডিলাইট’? দমে গেলাম খুব। অনেক প্রশংসা শুনেছি এই লকুমের। শেষে এই? হোটেলের এক বেয়ারা (অনেকটা অর্জুন কাপুরের মতন দেখতে) আমার মুখ ভেচকানো দেখে বোধহয় কিছু আঁচ করে থাকবে, আমাদের টেবিলে এসে মুখ নামিয়ে, ফিশ ফিশ করে বলল, আসল লোকুম চাখতে হলে আমরা যেন গ্র্যান্ড বাজার যাই। কথা উঠলো তাই বলে রাখা ভালো, ইস্তানবুলে যেদিকেই ঘাড় ঘোরাবেন, মুঠো মুঠো সঈফ আলি খান, রনবীর কাপুর, শাহরুখ খান, আমীর খান, আর শয়ে শয়ে, দীপিকা পাড়ুকোন, করিনা কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ, আর বিস্তর মধুবালা, ওয়াহীদা রহমান, বৈজয়ন্তীমালা বালী, শশী কাপুর চোখে পড়বে।  

গেলাম গ্র্যান্ড বাজারে, ওমা! এতো অবিকল আমাদের কলকাতার হগ মার্কেট। তফাত একটাই, কলকাতার নিউ/হগ মার্কেট এর বয়স ১৪৩ বছর , তবু তার ভাঙ্গাচোরা লড়ঝরে চেহারা, রক্ষনাবেক্ষনের অভাব প্রতিটি কোনায় স্পষ্ট। আর অপর দিকে, ১৪৫৫ সালে তৈরি ইস্তাবুলের গ্র্যান্ড বাজার দেখলে মনে হবে এই সেদিনে, বানানো। ঝকঝক করছে দোকানপাট, অলিগলি। যাকগে, তুলনায় গেলে মনখারাপ হয়ে যাবে, তার চেয়ে, লোকুম খুঁজি বরং। পর পর লোকুমের দোকান। সব দোকান থেকেই ঋষি কাপুর, শশী কাপুরেরা হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি জুড়েছে। একটা দোকানে তো হেমা, জয়া ও রাখি কে যেন গোল হয়ে বসে গল্প করতে দেখলাম। ঢুকে পরলাম একটি দোকানে, সঙ্গে সঙ্গে, প্লেট এ কয়েক রকমের লোকুম টুকরো এগিয়ে দেওয়া হল, ‘টেস্ট’ করার জন্যে। দেশে, আচার কিনতে গেলে যেমন আচার অল্প করে খেয়ে দেখে বাছতে বলে, সেরকমই। হোটেলের সেই ‘টার্কিশ ডিলাইট’ এর থেকে, রুপে,রঙে ,আকারে, স্বাদে, সব দিক থেকেই এই লোকুম আলাদা। কত রকমের যে লোকুম, আহা! চকলেট লোকুম, পেস্তা দেওয়া লোকুম, আপেল সাইডর লোকুম, সিনামন লোকুম, বাদামের লোকুম, অগুন্তি, অসংখ্য, বলে শেষ করা যাবেনা। ‘টেস্ট’ করতে করতেই ব্রাঞ্চ হয়ে গেল। ছয় মাস থাকে, নষ্ট হয়না...ইস্তানবুল ‘শপিং লিস্ট’ এ ‘মাস্ট’ এই দারুন ‘টেস্টি’ লোকুম

তুরস্কের রাজধানি আঙ্কারা, কিন্তু তুরস্ক ভ্রমন বলতে সবার ইস্তানবুলের নামই মনে আসে সবার আগে। ভুমধ্যসাগরের পারের শহর ইস্তানবুল, ফলের শহর, চোখ জুড়ানো ফুলের শহর, স্থাপত্যের শহর, ইতিহাসের শহর, কিন্তু আমি একে মনে রেখেছি, কেবাপের শহর হিসেবে। হ্যাঁ, আমাদের প্রিয় কাবাব এই কেবাপ এর অপভ্রংশ। একটা লোহার শিকের ওপরে, মশলা মাখানো মাংস কে গেঁথে, আগুনের ওপরে ঝলসানো হয়। আসুন, তুর্কি কেবাপের সঙ্গে আপনাদের একটু আলাপ করাই।

শোনা যায় যে কেবাপের উৎপত্তি, পূর্ব তুরস্কের শহর, এরজুরুম থেকে। তুরস্কে মূলত ভেড়ার মাংস দিয়ে কেবাপ হত, অবশ্য, কেবাপে তুর্কিরা বেগুন আর টমেটো ও ব্যাবহার করে। আমিষাশী বন্ধুরা নাক না শিটকিয়ে, একবার খেয়ে দেখে রায় দেবেন। তবে গরু, মুরগি আর খাসিও চলে আজকাল। সুন্দরী আনাতোলিয়া প্রদেশের শহর, আদানা, তুরস্কে বিখ্যাত, শিষ কেবাপ আর আদানা কেবাপির জন্মস্থান হিসেবে। লাল লঙ্কার অতিরিক্ত ব্যবহার এই আদানার কেবাপের বৈশিষ্ঠ। খেলে জিভে জল, চোখেও জল। বিখ্যাত, ডোনের কেবাপের জন্ম, ওসমানী সুলতানদের প্রথম রাজধানি, ‘বুরসা’ তে। যে ডোনের কেবাপের জন্যে আজকের তুরস্ক খ্যাত, তার জন্মদাতা, ইস্কেন্দর এফেন্দি। নমস্য ব্যাক্তি উনি। রসনার পথ ধরে, পৃথিবীর এত মানুষের মন কে বেঁধে ফেলতে পারা মোটেও সহজ কাজ নয়। ‘ইস্কেন্দর কেবাপি’ ‘বুরসা’ শহরের আর এক কেবাপরত্ন। বলাই বাহুল্য যে ইস্কেন্দর এফেন্দির নাম থেকেই এই কেবাপের নামকরন। খাদ্যরসিক ওসমানী সুলতানদের আর এক প্রিয় কেবাপ, ‘বেয়তি কেবাপ’। কেবাপের গপ্প শেষ হবার নয়। পাঠকরা আগ্রহী থাকলে, শুধু ইস্তানবুলি কেবাপের ওপরেই একটা গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখে ফেলতে পারি, কিন্তু আজ যে ইস্তাবুলের অন্তত কিছু বৈশিষ্ঠের কথা বলব বলে ভেবেছি, তাই প্রসঙ্গান্তরে চলে যেতে হচ্ছে।

মার্মারা উপসাগরের মধ্যে অসংখ্য ছোট ছোট দ্বিপের ওপর ভাসতে ভাসতে, টার্কিশ এয়ারওয়েস এর বিমান টুক করে ইস্তানবুল আতাতুর্ক হাভালিমানিতে নেমে পড়ল। হাভালিমানি মানে  তুর্কিতে যে বিমানবন্দর, সেটা নিশ্চয় পাঠকরা বুঝে নিয়েছেন। পৌঁছলাম আমার স্বপ্নের ইস্তানবুলে, পামুকের ইস্তানবুল, আয়া সোফিয়া, দোলমাবাহচে, তোপকাপির ইস্তানবুল, আতাতুর্ক এর ইস্তানবুল, ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস এর ইস্তানবুল, একটা সময়, তিন মহাদেশ, এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকার ওপর ছড়ি ঘোরানো, ওসমানী সুলতানদের রাজধানী ইস্তানবুল।  আবার পেরা প্যালেস হোটেলের ইস্তানবুল, মুস্তাফা কেমাল আতাতুর্কের বিপ্লব পরিকল্পনার আঁতুড়ঘর যে ‘পেরা প্যালেস’ মার্মারা উপসাগর ভূমধ্যসাগরেরই একটি অংশ, এবং এটি পৃথিবীর একমাত্র উপসাগর যার সমগ্র তটরেখা জুড়ে কেবল একটিমাত্র দেশ, তুরস্ক। সেই মার্মারা উপসাগর থেকে, বসফরাস প্রণালী ইস্তানবুলের বুক চিরে, নিজে গিয়ে মিশেছে কৃষ্ণ সাগরের অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক সি’ র জলে। কৃষ্ণ সাগরের তীর, চা বাগিচা আর ফলের বাগানের জন্য বিখ্যাত। অনেকেই খবর রাখেন না হয়ত, যে তুরস্কের চা পূর্ব ইউরোপে আর মধ্যপ্রাচ্যে বেশ খ্যাত। কারো বাড়িতে অতিথি হয়ে গেলে তো বটেই, এমনকি দোকানে সওদা করতে গেলেও প্রথমেই আপনাকে চা পানের আমন্ত্রন জানানো হবে। তুর্কিরা দুপুরের আর রাতের খাবারের পর ও কয়েক কাপ করে চা পান করেন।

ইস্তানবুলের ইতিহাস ঘাঁটতে গেলে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে এর একটা আভাস পাই।  এই শহরটি রোমান সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল সেই সময়ে। প্রথম আটশো বছর, রোমানরা পৌত্তলিক বা প্যাগান ছিলেন। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে, একটা পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। এই সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বিশাল আকার ধারন করে। শাসনকার্যে অসুবিধার জন্য, ২৮৫ খ্রিস্টাব্দে, রোমান সম্রাট ডায়োক্লেটিয়ান, সাম্রাজ্য কে ইস্টার্ন এম্পায়ার অর্থাৎ পূর্ব সাম্রাজ্য ও ওয়েস্টের্ন এম্পায়ার অর্থাৎ পশ্চিম সাম্রাজ্যে বিভক্ত করেন। পশ্চিম অংশের রাজধানি হিসেবে, রোমে নগরী তার জায়গা বজায় রাখে। বর্তমান তুরস্কের বাইজান্টিয়াম প্রদেশ কে পূর্ব সাম্রাজ্যের রাজধানি বানানো হয়। তাই নব্য প্রতিষ্ঠিত এই পূর্ব সাম্রাজ্যটির নাম, রাজধানীর নামানুসারে ‘বাইজান্টাইন’, রাখা হয় সম্রাট কন্সটান্টাইন, ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে, বাইজান্টিয়াম এর অদুরেই একটি অধিক সুরক্ষিত স্থান নির্বাচন করেন এবং সেখানে একটি নগরী পত্তন করেন এবং তার নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে, নগরীর নাম দেন কনস্টান্টিনোপল। এই হল কনস্টান্টিনোপল এর শুরুর কথা। এরপর ধাপে ধাপে এই শহর, পরাক্রমশালী, হয়েছে, খ্যাতির চূড়া ছুঁয়েছে, অনেক সংঘর্ষ আর রক্তপাতের সাক্ষী থেকেছে, অনেক জাতির, অনেক ধর্মের, অনেক দেশের মানুষের মিলন হয়েছে এই শহরে। যেমন পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য, নানান আক্রমনে, তার আগের শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হতে থাকে, তেমনি আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়তে থাকে রোমান সাম্রাজ্যেরেই পূর্ব দিকটাও। ১৪৫৩ সালে, ওসমানী সুলতান, মুহম্মদ বিন ফতেহ, কনস্টান্টিনোপল দখল করে, এর নাম দেন, ইস্তানবুল। 

ইস্তানবুল আয়তনে যেমন বিশাল, তেমনি জমকালো তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, খাওয়াদাওয়া, মানুষজন, চমৎকার গানবাজনা, অতিথি আপ্যায়নের ধরন। লিখতে বসে, কত কিছু নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু এই লেখার পরিধি সীমিত। তাই, চোখ বন্ধ করে ইস্তানবুল কে ভাবলে যে যে ছবি গুলো মূর্ত হয়ে ওঠে, সে টুকরো টুকরো স্মৃতি গুলোর কিছু নিয়েই লিখছি।

অনেকদিন আগে, ন্যাশানাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে, তুর্কি নাচ দেখেছিলাম। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, যে, তুর্কি নাচ, যাকে আমরা ব্যাঙ্গার্থে ব্যবহার করি, আসলে, উপাসনার একটি অঙ্গ। ঘুরে ঘুরে ঈশ্বরের মধ্যে মগ্ন হয়ে সমাধিস্ত হয়ে যান পীরেরা। এই নাচ কোনোদিন সামনে থেকে দেখব, এই ইচ্ছে হয়েছিল। মৌলানা জেলালুদ্দিন রুমি (১২০৭-১২৭৩) দরবেশদের (বাঙালি মিষ্টি নয় কিন্তু, এখানে সুফি পীর দের কথা বলা হচ্ছে) প্রার্থনার একটি ধারা প্রবর্তন করেন। সুরেলা ধ্বনি আর স্তবের মধ্যে এই দরবেশরা মোহাবিষ্টের মত ঘুরে ঘুরে ঈশ্বর কে অনুভব করতে চান। এই অনুষ্ঠানের নাম ‘সেমা’। বৈষ্ণবদের ধর্মাচারের অঙ্গ, আখর দিয়ে কীর্তন গাওয়া আর নৃত্যের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বর কে পাওয়ার চেষ্টার সাথে এই ‘সেমা’র একটা গভীর মিল পেলাম। শুধু তাত্বিক আদলে সদৃশ্যতা নয়, সব ধর্মের আত্মিকগত অভিন্নতা আরো একবার মনে অনুভব করলাম।  
ইস্তানবুলের এক পা ইউরোপে আর অন্য পা এশিয়াতে। মাঝে বসফরাস প্রণালির ‘টারকয়েস’ অর্থাৎ ফিরোজা রঙের জল। জানলাম যে ‘টারকয়েস’ শব্দটার উৎপত্তি, ‘টার্কি’ থেকে। এশিয়ার দিকটা নব্য, সাজানো, ছিমছাম। ইউরোপের দিক থেকে গাড়ি করে এসে, ওসমানী সুলতানদের, গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ, ‘বেইলারবেয়ি প্যালেস’ দেখে মুগ্ধ হলাম। বসফরাসের তীরে প্রাসাদের অপূর্ব গোলাপ বাগান, শ্রীনগরের মুঘল গার্ডেন কে মনে করায়। ইউরোপের দিকে, ‘গোল্ডেন হর্ন’ বলে একটি খাঁড়ি পুরনো ইউরোপীও ইস্তাবুল আর নতুন ইউরোপীও ইস্তানবুল কে আলাদা করেছে।

পুরনো ইউরোপীয় ইস্তানবুলেই, বিখ্যাত সব স্থাপত্য, সুলতান আহমেত, যার অপর নাম ‘ব্লু মস্ক’, এছাড়া আয়া সোফিয়া, যেটি  বাইজান্টাইন আমলে একটি অপূর্ব ক্যাথিড্রাল ছিলো, পরে, ওসমানী সুলতানেরা আয়া সোফিয়া কে মসজিদ এ পরিবর্তন করেন। আতাতুর্ক, এর বিপ্লব এর পর আজ, এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য, একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত। দেখলাম, বিখ্যাত ‘তোপকাপি সারায়ি’ অথবা প্রাসাদ যেখানে, ৩২ জন ওসমানী সুলতান থেকেছেন এটি ১৪৭৮ থেকে ১৮৫৩ অবধি সুলতানের বাসস্থান এবং সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। পরে, ১৮৫৬ এ, সুলতান আব্দুল মেজিদ ১, দোলমাবালচে প্রাসাদে নিজেদের বাসস্থান স্থানান্তরিত করেন। দোলমাবালচে অনেকটাই ইউরোপিয়ান ধাঁচে গড়া। ফিরে আসি তোপকাপিতে। এই বিশাল প্রাসাদের রান্না ‘বাড়িটি’ ( ঘর শব্দ টা ব্যবহার করতে বাধলো ) দেখার মত। ফ্যাক্টরির চিমনির মত পাঁচটা চিমনি, এর মাথায়। এই রান্না বাড়ি থেকেই ‘পিলাফ’ ( যাকে আমরা পোলাউ বলি )  দোলমা ( যেটা মোটেও বাঙালি নয়, আদতে, তুর্কি ) বেরিয়েছে। দেখলাম ‘গালাতা টাওয়ার’। এটি নজরমিনার হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর মাথা থেকে, ইস্তানবুলের ‘পাখির চোখের দৃশ্য’ দেখতে পাওয়া যায়। ‘গালাতা ব্রিজ’, ‘গোল্ডেন হর্ন খাড়ির ওপর, পুরনো ইউরোপীয় ইস্তানবুল আর নতুন ইউরোপীয় ইস্তানবুল কে যুক্ত করেছে। ‘গালাতা ব্রিজ’ এ অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে মাছ ধরছে। ব্রিজের নিচে রেস্তোরাঁ গুলোতে নানা  পদের মাছ রান্না করে বিক্রি হচ্ছে। ঘুরলাম ‘তাকসিম স্কোয়ার’ আর ‘ইস্তিকলাল কাদ্দেসিতে'। ‘ইস্তিকলাল কাদ্দেসি’ অর্থাৎ স্বাধীনতা রাজপথ, এক অভিনব রাস্তা। এই রাস্তায় কোন গাড়ি চলে না। দুই পাশে, হোটেল, জামাকাপড়ের দোকান, সুয়্যভেনিরের দোকান, খাবারের দোকান, রাস্তার পাশে ছেলে মেয়েরা বসে হাসছে, গান গাইছে, বাজনা বাজাচ্ছে, দোকানে দোকানে প্রবীণেরা গল্প করছে, টার্কির বিশেষ হাতল বিহীন কাপে চা খাচ্ছে, কেউ কেউ হাতে হাত ধরে রাস্তায় হাঁটছে, গন্তব্যহীন, উদ্দেশ্যহীন, উদ্বেগহীন। বড্ড ভালো লাগল এই উৎসব ছাড়াও উৎসবের মেজাজ, এদের উঁচু গলায় আড্ডা, এদের সামান্য ব্যাপারেই অট্টহাসি।

ইস্তানবুল থেকে নিয়ে যাচ্ছি ‘টার্কিশ তোয়ালে’ সিল্কের স্কার্ফ, লোকুম, টার্কির বিখ্যাত, আপেল-সিডার চা। আর নিয়ে যাচ্ছি, কামেরা-বন্দি অজস্র ছবি, স্মৃতি। কিন্তু এটাই কি সব? ওই যে তোপকাপি তে আলাপ হোল আধা তুর্কি, আধা জার্মান মেয়ে, তুগবা ডোগান এর সাথে, যে আমাকে তার বাড়িতে যেতে নেমন্তন্ন করল, আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলল, অথবা দোকানদার রেচেপ, যার দোকানে, কাপ প্লেট দরদাম করতে গিয়ে আধ ঘণ্টা ইন্ডিয়ার গল্প শোনাতে বাধ্য হলাম, আর গল্পের ফাঁকে খেলাম  তিন কাপ চা আর বাকলাভা। আরো কিছু মুখ, কিছু পরিচয়, হয়ত কিছু টান, কিছু সম্পর্ক থেকে গেলো, সেগুলো কি আমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি না? গত তিন হাজার বছর, এই শহর দেখেছে নানান মানুষের আনাগোনা, গ্রীক, রোমান, আলবেনিয়ান, আরমেনিয়ান, বুলগেরিয়ান, আরব, রোমানিয়ান, আজারবাইজানি, আর কত দেশের লোক এসেছে, থেকেছে, কেউ গড়েছে, কেউ দখল করেছে, কেউ ধ্বংস করেছে, কেউ আবার মূলস্রোতে, মিশে গেছে । কিন্তু ইস্তানবুল আবহমানকাল ধরে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়ে রয়ে গেছে, রয়ে যাবে। আমি সঙ্গে নিয়ে চললাম একটুখানি ইস্তানবুল, আর হয়ত, ইস্তানবুল ও আমার মনের কিছুটা রেখে দিলো। প্লেন, মাটি ছাড়লো, ইস্তানবুল কে বললাম, “যাই”। ইস্তানবুল আমার কানের কাছে এসে বলে গেলো, “যাই বলতে নেই, বলো, আসি। আবার এসো কিন্তু”।


লেখিকা ঃ জয়ীতা সেন রায়

Monday, July 27, 2015

The Road Less Traveled - Part II - Where Time Stood Still

Circa 1819. John Smith, a British officer of the Cavalry Division of the Madras Regiment had strayed from the patrol party that was travelling from Paithan to Daulatabad. Their stock of meat was depleted and on suddenly seeing a wild boar, he had, on an impulse, galloped after it. The eerie silence of the jungle, broken only by the sound of crickets rubbing their feet in glee to make a shrill cacophony, suddenly made him pull his reins in sharply. It was high noon, although the dense canopy of greenery hiding the blue could make anybody doubt that, and it was quite evident that he was lost. He thought fast, and decided that his priority was first to get promptly out of this jungle  before sundown and to search for any Gond settlements that sprouted here and there, where he could look for food and shelter.

As he wandered, in the jungle, the track seemed to get a little wet. His ear picked up the sound of water and he remembered that the river Waghora was in the vicinity, and he could follow it to some human settlements. As he hastened, he came upon a small waterfall in a clearing that was running into a river, a few feet below the hillside. Here was the river he was looking for and he felt that he was in for luck, that day. He galloped by the side of the river upstream, and then it happened...The horse slipped and Smith just managed to jump off the horse before the poor animal fell into the ravine. As he brushed himself and stood up, the entire picture loomed like a scary dream in front of him. Without a horse, lost in this dense jungle, he was as good as dead. he rushed to the edge of the cliff, and peered down, he was surprised to see that there was a rocky ledge just a few feet from where the horse had slipped, and luckily, the horse had fallen on that ledge. Though the steed was hurt, its feet bent and was apparently in pain, it was alive.

Smith immediately proceeded to scramble down the side of the cliff onto the ledge and held on with his dear life to some dry vegetation growth, some clumps of overgrown grass on the cliff-side. When ultimately, he could reach down to the ledge, he tried to calm the groaning horse. All that mattered to him now was to get the steed back to its feet, even if it was limping. He did not stand a chance in this jungle at night without the horse. He tore off his sash, the pride of his regiment and tied it around the knee of the rear right leg of the horse. All this excitement had completely worn him out and he sat down on a a piece of rock nearby, to decide on his next course of action. As he sat down, his hand touched the rocky surface of his seat. It seemed a bit too smooth to him and as he looked down, he was amazed to see that he was sitting down on a perfectly smooth piece of square rock, almost like a seat. As he stared incredulously at it, he found that the rock was not an isolated one and there were others strewn around and not only that, there seemed to be, some engravings on the the side of certain rocks. His curiosity got the better of him and he squatted down to tear off the growth of dry grass, from these rocky sides. 

His amazement was boundless when he found perfectly shaped statuettes, as well as flower emblems engraved on the rocks. He felt in his bones that he was on to something important. In the dying light, he was surprised to notice a flight of steps leading down to the river from the ledge-side and he hoped against hope that he had stumbled upon some sort of human settlement. As he climbed down the steps towards the river to quench his thirst, he noticed that the hill-side was queerly formed. It was as if he was standing in the middle of a horse shoe. Furthermore, he noticed a few openings on the sides of the hills, which looked like caves. He decided that it would be best for him to take shelter in the caves for the night, and to resume his search back home, the next morning, after his steed was rested. With this plan in place, He broke off, some dry branches from trees growing by the side of the river, attached a bit of his torn sash with some dried grass to them, sprinkled some gunpowder on it and lighted a torch. As he approached the entrance to the dark cave, holding his torch firmly, he was taken aback, by a colony of bats that screeched their way past him, their nauseating stench churning up his already empty stomach. 
As he timidly moved in, looking for a dry place to spend the night, his knees folded and he gasped at the splendour of the spectacle that unfolded before him. The stature of his discovery hit him instantly and he was unfalteringly convinced that he had stumbled upon one of the most culturally as well as historically significant discoveries of the century.

Fast-forward, Circa 2015, month of March. A motley group of 6 people had set out from, Hotel Kailas opposite the Ellora caves in an Innova to cover the 100 odd kms to reach one of the finest Unesco, World Heritage sites, Ajanta. We reached a point near the caves from where, transport belonging to the state tourism department alone, was allowed to ply till the cave site. As we disembarked from the airconditioned buses, we were confronted by a hoarding, proclaiming 'Ajanta Restaurant', which promised to serve authentic Maharashtrian thalis and and a variety of fruit juices. We planned a rendezvous with this eatery as soon as we would return from our cave sojourn.

Encircling the Waghora river, is a horse-shoe shaped cliff, that is home to a spectacular testimony of human creativity, perseverence and dedication. Set in sylvan surroundings, there are about 29 elaborate Buddhist cave temples, believed to have been constructed in the time span between 200 BC to the VI th century AD. After the VII th century AD, Buddhism started to decline in India and these caves were abandoned. All these caves as well their intricately carved interiors, have been carved out of one giant rock, that is the 70 feet high, Sahyadri mountain itself. Built by devoted Buddhist monks, depicting the lives and times of Buddha, the enlightened one and those of the Jatakas, the depiction of stories of Buddha in all his previous lives.

This Unesco, World Heritage site is a marvel to watch. Rock was cut from this mountain-side, then it was chiselled out and after that, carvings of Buddha in different postures, flowers, figures, stupas, chaityas and viharas were all built inside these tunnels. To top it all, intricate and exquisite paintings were done on the ceiling as well as on the pillars inside the caves.
These carvings and sculptures are considered to be the beginning of classical Indian art. This form of Indian art has exerted considerable influence in India and elsewhere, in particular to South Eastern Asia, Like Cambodia, Thailand and Java. Basically 5 of these caves were temples and the rest served as monasteries, accomodating about 200 monks and artisans. 

We walked up a winding road, that runs along a terrace towards the cave entrances. At one point of time, each of these caves were connected by a staircase to the edge of the river, most of which have disappeared now. The second group of caves, which were created at a later date, have a mark of the artistry of the Gupta and the post Gupta period. We could only visit the more significant of the caves, like, 9, 10, 19, 26 and 29 as it takes a very long time to go through them in details. By the time we could walk back the entire stretch, marvel at the sculptures and the frescoes, which were peeling away, complete a full circle, only allowing for intermittent breaks in between for water and snacks and photo and selfie sessions, we were completely drained out and were ready for some fresh pineapple juice along with an egg curry meal at the Ajanta restaurant. One reminder, for visitors. This is a good place to buy small rock cut statues of, Tathagata Buddha and the all time favourite deity of the Maharashtrians...Ganapati Bappa.

Soon we were speeding back towards Ellora, through a wide black road, flanked on either side by trees which seemed to be on flames, on the black soil of the Deccan. The palash was in full bloom on this part of the country. The friendly chit-chat and banter in the car was somehow silent now. Partly it was the tiredness, but, I feel, largely because of the enormity of the experience that we were all trying to grasp and to absorb, all in our own little ways.

Just about 5 kms before reaching Ellora, and about half an hour before sun down, Sandeep, our driver asked us, whether, we would like to visit, Khuldabad, which he said, had the mausoleum of Aurangzeb, the 6th Mughal emperor, and from where Aurangabad had derived its name. I certainly had no clue about Khuldabad and am sure, none of my fellow travellers did. Just like other lay people, I had assumed that all the tombs of the Mughal emperors were either in Delhi or in Agra. We readily agreed, to visit Khuldabad, and Sandeep screeched into a left u-turn and turned onto a dust road. 

Suddenly, as if in a blink of an eye, the entire ambience changed. It somehow seemed that we had reached medieval Agra. Where, there were only vast stretches of farmlands, small shops, shacks and a few fruit vendors and wayside trees on the highway, the dirt road towards Khuldabad was lined with mosques, groups of middle-aged, slightly bulky ladies in black burkhas accompanying young giggly girls, with large colurful danglers in their ears, in colourful hijabs, lining the narrow road. Men in white kurtas, with white taqiyah or the skull cap on their head and colourful checked lungis were relaxing near paan shops. Their large guffaws could be heard from far off. It was time for the Maghrib namaaz. Ittr shops and shops selling mogra garlands and incense sticks, lined the place where we finally disembarked at the corner of the road.

I had read that the emperor Aurangzeb believed in austerity. however I was not ready for the totally inostentatious and nondescript building that stood before me in the name of the final resting place of Alamgir Aurangzeb, A person, who ruled Hindustan for 50 long years.

Abul Muzaffar Muhi-Ud-Din Mohammad Aurangzeb, the fanatic, unscrupulous, intolerant, religious zealot was one of the most hated names in our history books and not without reason. As a ruler of India, he was biased and discriminated against other religious beliefs. He destroyed temples, imposed the Jiziya tax, a discrimintory taxation system, against the hindus and the sikhs. Instead of consolidating his territories, he waged constant wars against the Marathas, Sikhs, Jats and the Bundelas, which, depleted the already depleting treasury, as well as added fuel and purpose to the resistance movements of these communities. With his death on March 3rd 1707, in Ahmednagar, he left a corrupt and crumbling empire which was too large to be handled by any single despot, he left behind alienated subjects, a demoralised army and a depleted treasury.

However, as I stood before the grave of this man, great or otherwise, I could not bring myself to believe, that, this unassuming cloth covered austere grave, with no enclosure fit for such a royal, was, where he lay in peace. This was the same man, who did not use the royal treasury for his own personal expenses. Instead, he used the money he earned from making the taqiyah, and writing the Quran to locate and buy a piece of land for his grave. Lord Curzon, ( the Governor General and Viceroy of India from 1899-1905) on visiting this grave, had instructed the Nizam of Hyderabad to build a marble screen around the grave.

Aurangzeb is buried according to his own wishes, in the courtyard, towards the right of the southern entrance at the Dargah of Sayyad, Zain-Ud-Din Sirazi, a muslim saint, he revered as his mentor and spiritual guide. The tombs of Azam Shah, Aurangzeb's son and that of his wife, lie to the east of Aurangzeb's tomb. 


Sayyed Zain-Ud-Din Sirazi is a highly revered muslim saint, and at one point of time was the chief qazi of Daulatabad. Strains of sufi music caught my ear, as I was moving around the courtyard engrossed in photography. As I entered the main entrance to the Darga, dusk was slowly descending on this almost surreal world. The sufi singers were in a trance like state, and men, women and children were engrossed in the atmosphere of incense and mysticism. I got absorbed in the whole ambience too, as I was offered a scarf by one of the old ladies and was asked to cover my head. I sat down, cross legged with them and drank the beauty of the moment to my heart's content. 

The sun had set, when we were leaving the Dargah. The day had taught me two diametrically opposite lessons. One, that of grandiosity and flamboyance in the creativity of Ajanta, where the basic tenet was simplicity...while on the other hand, the extravagance and pomposity of a much-hated emperor, subdued amidst unimposing and humble culminations. This was perhaps the essence of life, the existence of duality of simplicity amidst sophistication. Simplicity as the ultimate form of sophistication has always existed. One can never do without the other.


Author: Jayeeta Sinha Roy

Photos by author






Sunday, July 12, 2015

The Road, Less Traveled - Part 1, The Winery of India

When in school, especially in senior classes, the detailed study of the conquests of the Mughal emperors was one thing, I generally avoided, especially the innumerable Deccan conquests of these countless emperors, both distinguished as well as the inconspicuous types, Firstly, I could never demarcate the area called 'Deccan'. It seemed to me, to be various overlapping areas of a venn diagram. However, to these kings, this area called the Deccan is where they seemed to have a field day. They just loved to send their generals there, chop off a bunch of heads and levy the strangest of taxes, based on the even strangest of logics.

My reader must be wondering about what exactly, I want to start off with, after beating the bush and flattening it almost to the ground. I know that it is a little difficult to bear with me when I am into this 'ringmarole' mood. But enough of it, let us get to the meaty part of the story. Our 7 seater Innova was gliding like a swan on Mumbai-Nashik Expressway, inching closer towards the region we now call Marathwada, after clearing the Mumbai traffic in 2 hours flat. The road was like a mirror, shining and smooth. There is a clan of Bengali-Mumbaikars, who are all gaga about not only Mumbai, but also about entire Maharashtra. They are always ready to show off their superiority to their poorer cousins from West Bengal. One of my Mumbaikar cousins informed me that,, after travelling on road in West Bengal, we would feel quite privileged to make a road trip in Maharashtra. However this proved to be a statement that he had to swallow with his pride, later, as other than the expressways, most of the Maharashtrian roads, after travelling for about 100 kms beyond city limits, are as bad or as good as any other Indian road and I can quite vouch for that.


The present day, Marathwada is a revenue division of the Maharashtra State. Most of what we knew as the Deccan of India under the the Tughlaq, Khalji, Lodi, Mughal dynasty was within this greater Marathwada, some parts of Andhra, on the Deccan plateau, between the Vindhya range and the Krishna river. This area was of strategic importance to the rulers, and thus one of the finest forts, which were very similar to each other, architecturally, were located in this region. Important amongst them were the Golconda, the Daulatabad or the Devagiri and the Bijapur Forts. We were headed towards one of these stunning forts, the Daulatabad fort. 


We took a short lunch break at Nashik. One thing that I must and must ask my reader is to try a staple Maharashtrian thali. This thali is normally vegetarian and consists of salt, a wedge of lime, chutney, achar, raita and pakoras. Maharashtrians are particularly proud of their astonishing range and diversity of chutneys, achars, brine pickles and koshimbirs.


The arrangement of the rice in the thali is of importance, it is placed at a side of the thali with a thoor-dal puri on top. One dry vegetable and one curry is usually staple in the thali. However, what I liked the most was the masala-papad. The hot baked-papad was sprinkled with diced onions, tomatoes, chanachur and coriander leaves.

Nashik, Pune and Mumbai is the golden triangle of Maharashtra. Earlier, Nashik used to be considered inferior to its two big brothers, but with the advent of the wine industry, Nashik and its adjoining areas is fast spreading its wings, both for the thrill associated with factory-bought wines, as well as vineyard tours, as well as resorts in the middle of vineyards. This place reminded me remarkably of Napa Valley in California. The Sula winery are at the forefront of the wine revolution in India. They even have a resort built to serve wine connoisseurs. I was reminded of the Robert Mondavi Winery in the Napa Valley, where we were served a variety of cheese and fruits with the world-famed Fume Blanc, Pinot Noir, Cabernet Sauvignon and Chardonnay. The ambience was somewhat similar, but as any Indian reader will understand that much leaves to be desired in terms of infrastructure, if the two can be compared. 

Turn right from Nashik, towards the heartland of India, and you are entering the rutty, dust laden, pebble-strewn, narrow lanes, that goes by the name of roads in India. Welcome to rural India, you are now entering Marathwada. The only soothing effect that only one of our senses was privileged enough to have was miles upon miles of brilliant-green vineyards upon the rich black soil of plateau, India. 

We were halfway there, had travelled about 170 kms in 3 hours. Another odd 170 kms needed to be traversed. we were moving at a very slow speed and beauty of the vineyards with the outline of the Sahyadri in the distance, with peasants walking home, tanned skins in very bright orange and pink sarees, with flowers in the braided hair, a local village marriage party with trumpets and the bride and groom walking side-by-side, and red 'palash' trees in full bloom, made for a very pretty picture.

Very soon, on the left side of the road, on a medium-sized plateau, loomed a dark and ominous structure. The mere sight of the Daulatabad Fort made me realise that the word 'magnifique' could have been coined for this fort alone. instantly, all 6 of us, moved to one side of the vehicle and tried to crane their neck out of only two windows. my daughter who has a great penchant for ghost stories, and films, immediately was convinced that this fort definitely had quite a few of those, whose, names should not be uttered in the evening. Thus the fort already famous world-wide had another value-addition to it.

Very soon, we entered Aurangabad. This city is the largest city in Marathwada and is also known as the 'City of Gates' and is named after the Mughal Emperor, Aurangzeb, who lies buried in nearby Khuldabad. As we passed the 'Bibi Ka Maqbara' a replica of the Taj, which Aurangzeb's son, Azam Shah had built for his mother, Dilras Begum. This monument is also called the 'Dakkhani Taj' or the Taj of the Deccan. It is also referred to as the poor man's Taj as it lacked the grandeur and the opulence of the original Taj, which was built by Azam Shah's grandfather, the great Shahjahan.

Evening was soon dropping its shroud over the horizon as we turned up towards the plateau which leads towards the world heritage site, Ellora. The Fort again loomed even larger than before as rains started to fall in big drops. there was a dense jungle enroute to the Ellora caves and even I started to believe in my daughter's conviction of paranormal activities, given the ambience. Our car soon rolled into the portico of the Kailash Hotel at Ellora. Would like to add a little side-note here. "Kailash e Kelenkari" the thriller written by Satyajit Roy and filmed by his son Sandip Roy was shot right here in this hotel. And from that time onwards, I had always wanted to stay in this hotel, if I ever got a chance to visit Ellora. My fantasy was not unrealistic as it was a beautiful property with cottages which had huge terraces facing the Ellora caves. I had always thought of 'Kailash' as mount Kailash, as the abode of Mahadev and only got to understood why this barren land, kilometers below the Himalayas was termed as Kailash, only after visiting the Ellora caves. I am sure that my readers are all better aware than me, so I am not wasting words on describing the difference between the two Kailashes.

The next day would be a day full of travelling and activity. We were ready to turn in but it was not to be without the highlight of the day....a bottle of chilled wine from the Sula stable, called the Madera. and it felt like heaven on earth.




Tuesday, April 29, 2014

একলা চলার বউনি


আমাদের ছোটবেলায়, খয়েরি রঙের চামড়ার স্যুটকেস, শতরঞ্চির বেডিং আর টিফিন ক্যারিয়ারে লুচি আলু চচ্চড়ি সমেত সদলবলে ট্রেনের কামরায় উঠে গুষ্টিসুখ অনুভব করা দিয়ে শুরু হতো আমাদের বেড়াতে যাওয়া। ভ্রমনের সঙ্গে গুষ্টিসুখ, এ যেন ইলিসের সঙ্গে সরষে বাটা। বিউলির ডালের সঙ্গে আলু-পোস্ত।

যত বড় হয়েছি, গুষ্টিসুখের ধরন বদলেছে। আগে আমি ছোট ছিলাম, এখন ছোটোরা আমাদের সঙ্গে থাকে। গুষ্টির মধ্যেও বিভিন্নতা...কখনো বন্ধু বান্ধব, কখনো আত্মীয়-স্বজন, হবি-গ্রুপ, আবার কখনো অফিস কলিগ।ট্রেনে উঠে হই হই করতে করতে খাওয়া, খাবারের মেনুতেও বৈচিত্র্য। লুচি আলু চচ্চড়ির জায়গাতে পরোটা চিকেন কষা, বিরিয়ানি, বাঙালি রসনার উপযোগী চিনা চাউ- চিলি অথবা মাঞ্চুরিয়ান চিকেন এসেছে। যেটা বদলায়নি, সেটা হল গুষ্টিসুখের অনুভুতি। নিচের বার্থে একসাথে গুটিশুটি হয়ে বসে, খবরের কাগজ পেতে কাগজের প্লেটে করে ভাগাভাগি করে খাওয়া, খাবারের স্বাদই অন্যরকম। নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দের স্বার্থে আমরা যে আপনি-কোপনির জীবন বেছে নিয়েছি, সেটার একঘেঁয়েমিটা কাটাতে আমাদের এই একসাথে বেড়াতে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একা একা ভবঘুরেবৃত্তি আমাদের দেশে বিশেষ দেখা যায় না। যদিও বা দেখা যায়, তারা সকলেই পুরুষ। মেয়েদের একলা ঘুরে বেড়ানোতে আমাদের দেশে বিস্তর বিধিনিষেধ। প্রাথমিক আপত্তিটা বাড়ি থেকেই ওঠে। উঠোন সমুদ্র যদি বা পেরোলেন, রাস্তাঘাটে একলা দেখলে আমাদের অগনিত বীরপুঙ্গবরা উৎসাহী হয়ে পড়েন বড্ড। এই প্রসঙ্গে একটা ছোটবেলার স্মৃতির কথা মনে পরে গেল। নাইন কি টেনে পড়ি, মা আমাদের তিন ভাইবোন কে নিয়ে ট্রেন এ চেপে বাবার কর্ম স্থল হায়দ্রাবাদে যাচ্ছেন। মা, ভয়ে আধখানা হয়ে আছেন এই চিন্তায় যে তিনটে 'ছোট বাচ্চা'-কে নিয়ে একজন একা মহিলা কি করে পৌঁছবে। তখন ট্রেন এ লেডি'স কামরা থাকত। ছটা বার্থ থাকত সেই কামরাতে, দরজা টেনে বন্ধ করে দিলে, একটা আলাদা ঘর যেন। সেই ছটার মধ্যে চারটে আমরা দখল করলাম। আমাদের হট্টগোল থামতে, অপর দিকে তাকিয়ে দেখার ফুরসৎ পেলাম। দেখলাম বাকি দুজন বার্থে আমাদের সহযাত্রী, দুই স্বেতাঙ্গিনি, প্রায় আমারই বয়সী। বিস্ময় আর অবিশ্বাসের ঘোর কাটল যখন, তাদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম যে, স্কুল শেষ করার পর দুই বিলিতি বান্ধবী 'ব্রেক ইয়ার' নিচ্ছে। নিজেদের রোজগারের জমানো টাকা নিয়ে, বিদেশ ভ্রমণে বেড়িয়েছে। মনে পরে গেলো আগের বছরের কথা, স্কুল থেকে শিক্ষিকাদের অভিভাবকতায় ক্লাসের সব ছাত্রীদের পুরী যাবার একটা সুযোগ এসেছিল। হাজার অনুনয় বিনয় করেও, নানান যুক্তি দেখিয়েও, মার অনুমতি আদায় করতে পারিনি। বাকি সব বন্ধুদের হই হই করতে করতে যাওয়া আর খুশি ঝলমলিয়ে ফিরে এসে আমাকে ব্রাত্য করে নিজেদের মধ্যে সুখস্মৃতির সেই রোমন্থন করার সেই ঘটনা আবার মনে তাজা হয়ে গিয়ে, আমার মনের প্রলেপ পরা জ্বালাটাকে উসকে দিল আবার।



রাতে ঘুমের আগে বেশ সজাগ ছিলাম। মালপত্র তেমন কিছু নেই যদিও। কিন্তু কখন ঘুমিয়েছি নিজেই জানি না। পরের দিন ঘুম ভাঙল গাড়ির একটা ব্রীজ পেরোবার শব্দে। বাইরে তাকিয়ে দেখি মহানন্দা পেরোচ্ছে। একটু পরে নিউ-জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে গাড়ি ঢুকলো। আমি যাব মালবাজার, হাসিমারা পেরিয়ে আলিপুরদুয়ার। কিন্তু শোনা গেলো হাসিমারার আগে একটা মালগাড়ি হাতিকে ধাক্কা মেরেছে। ফলে লাইনে গাড়ি চলাচল বন্ধ। আমি পড়লাম অথৈ জলে। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। খুব অল্প আলো ফুটছে। শিলিগুড়ি শহর এখনো ঘুমন্ত। ষ্টেশনের ঘুমও ভালো করে ভাঙেনি। দু'এক জন সহযাত্রি ভাষাভাষা পরামর্শ দিলেন, যে নিউ-জলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকে রিকশা বা অটো করে পুরোনো শিলিগুড়ি জংশন ষ্টেশনে গিয়ে মালবাজার পর্য্যন্ত প্যাসেঞ্জার গাড়ি ধরে নিতে। কিন্তু স্থির-নিশ্চিত করে কিছু ভাবতে পারছিলাম না। কিছুটা অসহায় লাগছে এটা বুঝতে পারছিলাম। সেই সঙ্গে বিরক্ত লাগছিল, প্রথম বার একলা ভ্রমনেই এই বিপত্তি হল।




আমার বাবা বহুকাল আগে শিলিগুড়িতে থাকতেন চাকরিসূত্রে। সে সময়ের কিছু স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পরবর্তিকালে আমাদের যোগাযোগ রয়ে গেছে। নিউ-জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেরকম একজন মানুষের কথা মনে পড়ে গেল। গৌরিদা আর বুবুন বউদি। খুব যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ওঁদের সঙ্গে এমনটা নয়। পরিচিত, এইটুকু বলতে পারি। আমার ফোনে খুঁজেপেতে ওঁদের বাড়ির নম্বর পেলাম। এক মুহুর্তের দ্বিধা, এই ভোরবেলা ঘুম ভাঙাবো? তার পরে করেই ফেললাম ফোন। ওপাশে গৌরিদার গলা পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে কিছুটা ভরসা ফিরলো। গৌরিদা চিনতে পারলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে চলে আসতে বললেন ওঁর বাড়ি আশ্রম পাড়ায়। একটা অটো ধরে পৌঁছলাম ওঁদের বাড়ি। রাজকীয় খাতির পেলাম। চা-জলখাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়েই পড়লাম। এদিকে গৌরিদা ততক্ষনে অনেক কিছু ব্যবস্থা করে রেখেছেন, সেটা বুঝিনি। ঘুম থেকে উঠে শুনলাম আমার জন্যে মাল বাজার পৌঁছনোর একটা ব্যবস্থা করে ফেলেছেন গৌরিদা। এখান থেকে একটা ট্রেকার ছাড়ে দুপুর বেলা। সেটায় আমার জন্যে জায়গা থাকবে। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে মালবাজারে নামিয়ে দেবে। আর মাল বাজারে সরকারি রেস্টহাউসে আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন গৌরিদার এক আত্মীয়। এ যেন আমার কাছে মেঘ না চাইতেই জল। কি বলে যে......




মালবাজারে সরকারি অতিথিশালা একটা বিশাল ব্যাপার। কিন্তু অতিথি খুবই কম। রিসেপশানে সরকারি কর্মচারী ভদ্রলোক রীতিমতো ধর্মসঙ্কটে পরে গেলেন। বৈধ সব কাগজ পত্র আমি জমা দিয়েছি, তবু বার বার জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন যে সাথে কোন অভিভাবক আছে কিনা। খুঁতখুঁত করতে লাগলেন। ঘর পেলাম দোতলায়। জিনিষপত্র রেখে একটু হাত পা ছড়িয়ে বসে এক কর্মচারির কেমন যেন মুখচেনা লাগলো। মনে পড়লো বাবার সঙ্গে বহু বছর আগে এসেও এঁকে দেখেছিলাম। উনি বললেন কোন চিন্তা নেই, যা লাগবে উনি ঘরে এনে দেবেন। শেষ বিকেলের আলোতে অতিথিশালার ছাদে উঠলাম। সামনে মাঠ, আমবাগান, বহুদুরে নীলচে পাহাড়ের সারি দেখা যাচ্ছে উত্তর দিকে। চারিদিক খুব নিস্তব্ধ। সন্ধে নেমেছে। অতিথিশালার বার থেকে কিছু হইচই ভেসে আসছে। একটু ভয় করছিল। নেমে এলাম নিচে। ঘরের দেওয়ালে হরেক বর্ণের মথ। নিজের সাথে আমি মুখোমুখি আজ বহুদিন পর। একদম একলা। কিন্তু সত্যি কি একা? বাড়ির লোকজন বা বন্ধুরা নেই বটে, কিন্তু আছেন গৌরিদা, ওঁর সেই নাম না জানা আত্মীয়, যিনি আমার থাকার বন্দোবস্ত করেছেন, আরো আছেন অতিথীশালার সেই বয়স্ক কর্মচারিটি। একলা কোথায় আমি? একা না বেরোলে এই মানুষগুলো অচেনা থেকে যেতেন হয়ত। একলা চলার বউনি করতে বেরিয়েছিলাম। নতুন বন্ধুত্ব আর সম্পর্কের বউনিটা হিসেবে ছিল না। অলমিতিবিস্তারেণঃ

ছবি: লেখকের নিজের

Saturday, November 30, 2013

On the Holy Trail - Mai Ka Haar

Ma Sharda Temple
Prajapati Daksha, in his foolishness and arrogance, excluded his daughter Dakshayani or Sati and his son-in-law, Mahadev from the elaborate guest list that he had prepared for his much-hyped Daksha Yajna. Little did he realize that his show of strength to belittle Mahadev, would reach such severe proportions, where, he would not only have to part with his life but also with his pride. He was given a fresh lease of life, only with the head of a ram.

There I go drifting off again....focusing on the main theme and starting from the beginning, let us imagine, Sati, as a beautiful bride, who has been married for some time only (though, beware, their timescape and ours do not match at all) is only too eager to meet her own family, her mother Prasuti, father Daksha Prajapati, uncountable number of sisters, her childhood friends, the little fawn that she fed with her own hands...etc...etc..so, when news of Daksha's festivities reach Kailash, she immediately, starts planning and packing her bags, throws in a few socially acceptable outfits for her husband and waits for the cards to arrive. The cards don't come, but the stipulated day for the festivities draw closer and closer, and Sati in her desperation approaches Shiva to arrange for her to travel to her maternal home.  

Shiva fervently tries to dissuade her from visiting the Yagna. He tells her, “ Sati, we were not invited.” To this Sati replies, “ why would I need an engraved invitation card to go to my father’s house?” ?” Shiva continues to reason with her and says, “Sati, it is not appropriate to gate crash a party, more so when, the idea of this yajna was conceived with the sole purpose of humiliating me.” At this Sati, retorted, “ if that is the case, then, more the reason for me to go there and demand an explanation and an apology from Prajapati Daksha.”


Shiva understood that he could not overrule destiny and told Sati, ‘I see that you have made up your mind and I will not come between a father and a daughter, however, I will not visit your father’s house without a proper invitation. “ Saying so, he summoned Nandi, Bhringi, Shringi and Shiv ganas and directed them to take Sati to her father’s place, safely.

Sati reached the elaborately arranged yajna site when the holy fires were being lit and in presence of all the supreme Devas, Brahma, Vishnu, munis, rishis, her sisters, their husbands, she was stopped in her tracks by her father. He quite blatantly pointed out to her, “ you and your husband are not welcome here.” Sati felt humiliated, but she still continued to reason with her father. “ Prajapati, with all due respect, You have made a serious mistake by not inviting Devadidev Mahadev, the Yagneshwar, the residing Lord of Yajnas. Do you think that your yajna will be successful without his presence? You still have the time to rectify the mistake by inviting him with all the respect due to him." 

Prajapati Daksha, guffawed and scornfully replied, "Yagneshwar!! my foot. He roams about naked, whiles his time doing nothing, mingles with ghosts, shares bhang with them, he is totally un-presentable in society. I still cannot fathom why you were so adamant about marrying him, but if you have done so, please refrain from requesting me to accept him as my son-in-law."

Sati said, "father, this body was engendered by you, so I will not retain this body as it will be of utmost disrespect to my Lord. " Saying this she sat down to meditate and the light from her mind transformed into flames and engulfed her.

Sati's self-immolation
On learning about this catastrophe, Shiva emerged on the scene with Virbhadra and Bhadrakali and utter chaos and mayhem ensued. He took the charred body of Sati on his shoulders and started the 'Tandav', the dance of ultimate destruction. All of the creation shook and the Devas invoked Vishnu so that he could stop Mahadev from wiping out the entire creation. 

Vishnu sent his Sudarshan Chakra spinning, and cut up Sati's body into 51 pieces, which fell across, 51 places across the world and they later came to be known as the 'Shakti Peeths'. These are extremely holy places of pilgrimage for the shakta sect of hinduism.

At Maihar Station
If my readers have some patience left, then perhaps, I can start my story, exactly from this point. The point where, "Mai" or mother Sati's necklace or "har" fell, is said to named as Maihar. Here the mother Goddess is worshipped as Ma Sharda. The princely state of Maihar was once a part of Bundelkhand in the state that we now know as Madhya Pradesh. Maihar is a station in between Satna and Jabalpur and is situated almost 90 kms from Jabalpur.

I reached a nondescript Maihar station, around 11PM at night, (thanks to a 7 hours late-running, Mumbai Mail) towards the end of January, shivering to my bones, with my entire family and luggage in tow. As I emerged on the platform, it felt downright eerie and desolate, not a single soul, not even a stray dog was in sight. The only other soul who descended on the platform was a gentleman, who seemed well-equipped to fight the biting cold. As we trudged down to the gate of the station, our spirits sank to see that there was not a single vehicle to carry us to "Surbahar" the MPTDC hotel and the only worthwhile accomodation in this desolate town. 
Puja offerings

We were in for a bit of luck as the gentleman, took pity on us and offered us a lift in his jeep. It turned out that he was a manager in the Birla Cement factory, near Maihar, one of the innumerable cement factories located here owing to the abundance of limestone deposits in the area, which is a major raw material for cement production. He was God-sent in every aspect of the word.
Entrance to Ma Sharda Temple

A hot bath at an unearthly hour at the cosy hotel, suddenly shot up our appetite and the ghee smeared chappati with paneer masala, salad and mixed vegetables, felt like the best ever meal that I had tasted at almost 1:00 in the morning.


Yes, my readers have got it right...I am here to visit the Sharda temple, and also to visit the mausoleum of Baba Alauddin Khan Sahab, which is no less a temple to me.  I have never considered myself to be a devout hindu, nor am I a very religious person, and it would have been a daunting task to persuade my atheist husband to accompany me to any place, if it even remotely smelled of religion, let alone on a officially proclaimed pilgrimage. But as fate would have it, he had a conference scheduled in the nearby town of Rewa, and I somehow managed to make him agree to a visit here, as I argued, that it was only a matter of an extra day.

Flower seller early morning
Around 6:30 the next morning, we took the road towards Trikut hill. The early morning cold air was like cutting into my nostrils like a blade and it was difficult to breathe in. The roadside stalls selling puja-wares and jazzy red head scarves, proclaiming, 'Jai Mata Di' were already doing brisk business.
Ropeway to Trikut Hill
I had once visited Maihar, just a few months after my marriage and at that point of time, climbing 1063 steps, seemed like nothing to us , but the thought of repeating that feat after about 20 years seemed impossible. But we came to know that a ropeway system had been introduced from 2009, and that saved the day. From the ropeway station, where we had to open our shoes and go barefeet, the view was stupefying (though our feet had gone numb in the cold and my son was adamant that he would not leave his new shoes behind as he was certain that they would get stolen). 
Mata Sharda Mandir atop Trikut hill

After reaching the top, which offered a magnificient view of the surrounding tableland,  I offered my Puja to Devi Sharda and would have liked to spend some more time in the serene surroundings, but as with most hindu pilgrimage sites, we were herded out with the other devotees. This leaves such a bitter taste in the mouth that it keeps me wondering about the worthiness of making a pilgrimage at all.

Baba's Mazar


Our next stop was Baba Alauddin Khan's home and Mausoleum. Baba, as he is fondly known across Maihar, was the forefather of the Maihar Senia gharana of Hindustani Classical music. He revolutionised Hindustani Classical music, by bringing about a reneissance in Hindustani Classical Instrumental music. To those who are passionate about music, this would qualify as a pilgrimage too. 
Baba Ustad Alauddin Khan's Home at Maihar
We now proceeded towards the princely state of Rewa, which is part of Baghelkhand region of Madhya Pradesh and at an approximate distance of around 45 kms from Maihar. It As we travelled through India's heartland, it seemed to me that I had been transported back to the medieval times...But more of that on a later date.